সজল আহমেদ এর কবিতা
মিস
১
আপনার হয়েছে স্টমাক ক্যানসার
আজ ছত্রিশ দিন ছুঁলো।
একটা ক্যোমোর পরই পরতে শুরু করেছে চুল
দাঁতগুলো নড়বড়ে হয়ে গেছে
নিস্তেজ দেহ লোহার খাটে
বের হয়ে আসছে স্কলেটন,
কিছু খেলে তা উগড়ে ফেলে দেন!
বাসায় আসার দিন
ডাক্তার বলেছেন, আপনি বাঁচবেন, একটু নিয়ম করে শুধু অষুধটা খাবেন।
হ্যাঁ বাঁচতে হলে অষুধ মিস করবেন না
বাঁচতে চান আর তাই অষুধ মিস করেন না
তবুও মাঝেমাঝে মিস হয়ে যায়!
আজ বিকেলের অষুধটা মিস হওয়ায় চিন্তিত
দেহ ঝিম ধরে যায়, আপনি বিস্মিত!
এখন বুঝতে পারছেন, সামিরার মৃত্যুর পর ওঁর ভালোবাসা বুকে নিয়ে
একাএকা বেঁচে থাকার কোন মানেই ছিলোনা, এসব আবেগ ভূয়া!
মানুষের একা থাকা বোকামী
তারচে বড় বোকামী কারো ভালোবাসা বুকে নিয়ে একা থেকে যাওয়া।
২
আপনি পরে আছেন পৃথিবীর কোন নিস্তব্ধ কোটরে
এখানে আপনি বিমারে
যেখানে কেউ আপনার খবর জানেনা
কোথায় আছেন আপনি, কেমন কাটাচ্ছেন দিন
কিবা খাওয়া হচ্ছে, আদৌ খাচ্ছেন কিনা
কেউ খবর রাখেনা!
একটা শ্বাসের সাথে লড়াই করে
প্রতিদিন খাবি খাচ্ছেন মৃত্যুর দুয়ারে।
আপনি মৃত্যুর সাথে রোজ পাঞ্জা লড়ে-
আসবে বোলে মৃত্যু এমন ডরে,
বাহুতক গেড়েছেন নরম কাদায়;
আপনি নিজেই জানেন, মানুষ এখানে সবচে অসহায়!
খারাপ লাগছে, কষ্ট হচ্ছে, কাঁদতে চাচ্ছেন- কাঁদতে যাচ্ছেন
দৌঁড়াচ্ছেন ডাক্তারের করুণ চেম্বারে
আপনি মৃত্যুর দুআরে খাবি খাচ্ছেন!
কেঁদেই ফেলেছেন- হায় কেউ খোঁজ নেয়নি!
মানুষ বড়ই স্বার্থপর; তারা স্বার্থপর নিজের কাছেই নিজে;
নিজ প্রোয়োজনে বিক্রি করে নিজের ধমনী, বাবার কিডনি!
৩
আরো ভাবছেন, আজ আপনি জীবিত
তবুও কেমন ভুলে বসে আছে সবাই!
আশ্চর্যই লাগে, একসাথে গোল্লায় যাওয়া বন্ধুটাও একটু সময় করে
আপনাকে দেখতে আসতে পারেনা!
সবাইকে জানানো হয়েছিলো।
তাঁরা বিজি
পৃথিবীর রাস্তা, গাড়ি, মাটি, নদী সবাই বিজি
আর একসময় পৃথিবীর সমস্ত কুকুরগুলোও বিজি হয়ে যায়।
আপনি ভালোই জানেন এসব।
৪
তবুও ঈশ্বরপ্রদত্ত হৃদয় তাদের বিজিত্ব মানতে নারাজ; বারংবার প্রশ্ন করে, কেন অামার আপন লোকগুলো বিজি হবে?
তাদের বিজিত্ব মানা যায় না। ইচ্ছাপূর্বক,
কেন কী কারণে তাঁরা আমাকে একটুও দেখতে আসবেনা?
এসব ফালতু প্রশ্ন- আপাতত বিরামহীন আপনাকে পীড়া দেবে।
অথচ হৃদয়, এমন যুক্তিতে কখনো আটকে থাকেনা-
একদিন সবাই'ই বিজি ছিলো।
এই রুমটা আপনার বাবার, যিনি কিছু বছর আগেও আপনাকে মিস করতেন।
০৪/১০/২০১৯
#সজল আহমেদ
Comments
Post a Comment